counter easy hit
বিশ্ব-ক্যান্সার-দিবস

গত ৪ ফেব্রুয়ারি আন্তজার্তিকভাবে পালিত হয়ে গেল বিশ্ব ক্যান্সার দিবস। ক্যান্সার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাঙলাদেশের জন্য বড়ধরণের হুমকি হয়ে আসবে বলে ধারণা করা যায়।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহন করে থাকেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ক্যান্সার হাসপাতালের রোগী সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও ধারণা করা যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের চেয়ে কয়েকগুন বেশি রোগী প্রতিদিন এই দু’টিতে সেবা গ্রহণ করে থাকেন।
সারা পৃথিবীতে ২০০৫ সালে প্রায় ৭৬ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যায়। বাংলাদেশে ২০১২ সালে ১ লাখ ২২ হাজার ৭০০ নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে মোট ক্যান্সার রোগী ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৪০০ জন।
সাউথ এশিয়ান জার্নাল অব ক্যান্সার’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩-১৫ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত। প্রতি বছর রোগ নির্ণয়ে নতুন করে দুই লাখ মানুষের মধ্যে ক্যান্সার ধরা পড়ছে।
গবেষণা বলছে, ক্যান্সার আক্রান্ত প্রতি দুই লাখ মানুষের জন্য দুটি রেডিও থেরাপি সেন্টারের প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়লে সারা দেশে ৩০০টি রেডিওথেপারি সেন্টারের প্রয়োজন হবে। কিন্তু দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মাত্র ১৭টি রেডিওথেরাপি সেন্টার রয়েছে। সারা দেশে বেড ক্যাপাসিটি রয়েছে মাত্র ৫০০টি; যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।
মোট ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর ৬০ শতাংশই পুরুষ। পুরুষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৩ শতাংশই আক্রান্ত হচ্ছে ফুসফুসের ক্যান্সারে। অন্যদিকে ওরাল ক্যাভিটি ক্যান্সারে ১২ ও অন্ননালির ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ।
এছাড়া আছে পাকস্থলী, হজকিন লিমফোমা, নন-হজকিন লিমফোমা, মূত্রনালি, লিভার ও লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার। অন্যদিকে ৩৩ শতাংশ নারীই ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রন্ত হচ্ছে। সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে ২৬ শতাংশ ও ওরাল ক্যাভিটি ক্যান্সারে প্রায় ৭ শতাংশ নারী আক্রান্ত হচ্ছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্স অ্যান্ড হসপিটালের ক্যান্সার রেজিস্ট্রি রিপোর্ট অনুসারে, ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীরাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। গত দুই বছরে যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের পেশা, রোগীর ধরন, ক্যান্সারের প্রকারসহ বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ছেলেদের মধ্যে কৃষি পেশায় নিয়োজিত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পুরুষ রোগীর মধ্যে ১৮ শতাংশ কৃষি শ্রমিক ও ১৭ শতাংশ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। অন্যদিকে নারীদের মধ্যে গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। নারী রোগীদের প্রায় ৩৬ শতাংশেরই পেশা গৃহিণী।
কৃষি জমিতে কীটনাশক ব্যবহার, খাবারে ভেজাল এবং পরিবেশ দূষণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তাছাড়া বিভিন্ন ইস্ট্রোজেন ধরনের হরমোন (যেমন বিসফেনল) যা আর্লি পিউবার্টির জন্য ব্যবহার হয় স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী বলে সাম্প্রতীক গবেষণায় জানা গেছে।
মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে বা অধিক বয়সে বিয়ে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের একটি কারণ বলে ভাবা হয়।
বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার ব্লাড ক্যান্সার সহ নানাবিধ ক্যান্সারের কারণ বলে ধরা হচ্ছে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা দরকার।
সন্তানের স্কুলের পানির পাত্রটি যেন প্লাস্টিক না হয়, এই জায়গা থেকেই আগে সচেতনতা সৃষ্টি হোক। সচেতনতা এবং যুগোপযোগী আধুনিক জ্ঞানই পারবে আগামী ক্যান্সারের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে।
আকাশ আহমেদ
বিজ্ঞান লেখক ও সংগঠক

Write a comment:

*

Your email address will not be published.

For emergency cases        09613222777