cool hit counter
সর্বশেষ প্রকাশিত

প্রসঙ্গ নজরুল-সঙ্গীত গ্রুপের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

– দিলীপ গুহঠাকুরতা

গত ১৩ জুলাই ২০১৬ বুধবার ছিল প্রসঙ্গ নজরুল-সঙ্গীত (প্রনস) গ্রুপের প্রাণপুরুষ রফিক সুলায়মান সাহেবের জন্মদিন এবং একইসাথে প্রনস অনলাইনগ্রুপের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে মেট্রো শপিং সেন্টারের সপ্তম তলায় ধানমন্ডি ক্লাবের ফ্যামিলি লাউঞ্জে আয়োজন করা হয় একটি জমজমাট আনন্দ সন্ধ্যা। দেশের নজরুল সঙ্গীত ঘরানার মালভূমিতে যারা শির উঁচু করে অবস্থান করেন, তাঁদের অনেকেই অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সঙ্গীতশিল্পী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেশ ক’জন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রিয় লেখক ও কবি। আরও উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। গানে, কৌতুকে, আলাপনে সন্ধ্যা সাড়েসাতটা থেকে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ২৪০ মিনিট রকেট গতিতে যেন উড়ে গেলো।

নজরুলের প্রট্রেটসমেত প্রনস প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সুদৃশ্য ব্যাজ বুকে লাগিয়ে দিয়ে এবং দারুণ সুন্দর একটি র্যাাফেল-ড্রয়ের কূপন উপহার দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান প্রনস স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রাণপুরুষ আল-হাজ রফিক সুলায়মান এবং প্রনস-এর অন্যান্য উপদেষ্টাগণ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই একই সমতলে সভামঞ্চে উপবেশন করেন নজরুল গবেষক রফিক সুলায়মান, প্রথিতযশা নজরুল শিল্পী মুর্শিদ জাহান এবং গানবন্ধু গোলাম ফারুক। প্রনস উপদেষ্টা প্রকৌশলী নূরুস সাফা’র স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় প্রথম পর্ব। জনাব সাফা প্রনস-এর উন্মেষ এবং বিকাশ নিয়ে নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেন। নজরুলকে আমাদের কেন প্রয়োজন এবং কেন এমন একটা সংগঠনের দরকার হলো সে বিষয়ে তিন সংক্ষিপ্ত কিন্তু মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এরপর প্রনস-এর কো –এডমিন এবং প্রথম সদস্য শিল্পী বিপাশা গুহঠাকুরতা তাঁর স্বভাবসুলভ প্রাঞ্জল কিন্তু চপল ভঙ্গীতে প্রনসের গত তিনবছরের পদচারণা এবং প্রনস এডমিনের অবদান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, প্রনস-এর সাথে পথচলা যেন নজরুলের সাথেই পথচলা, নজরুল-সঙ্গীতের সাথে পথচলা। তিনি ‘আমরা যার যার নজরুল সবার’ , ‘যেখানে অজাচার সেখানেই প্রতিরোধ’ , ‘চিরদিনের নজরুল’ এমনি কয়েকটা স্লোগানের কথা উল্লেখ করেন যেগুলো গত তিন বছরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তুলেছিল এবং একই সাথে প্রনস-এর বৈশিষ্ট্য সপ্রকাশিত হয়েছিল।

এরপর প্রনস-এর সদস্যবৃন্দ এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সতেজ ফুল এবং প্রীতি উপহার দিয়ে রফিক সুলায়মান সাহেবকে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রনস-এর দীর্ঘ স্থায়িত্ব কামনা করেন।

শুভেচ্ছা জ্ঞাপন পর্বের পর ছিল চা-পানের জন্য দশমিনিট বিরতি।। গান বন্ধু গোলাম ফারুক ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে মুচমুচে পাপর ভাজা আর সুস্বাদু মাশরুম ফ্রাই চর্বনের সমবেত কুরমুর শব্দে চা-পর্বে পুরো লাউঞ্জে কিছুসময়ের জন্য অনির্বচনীয় সিম্ফনি তৈরি হয়।

জলযোগ সমাপ্তিতে রফিক সাহেবের জন্মদিন এবং প্রনস প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে স্মৃতিময় করে রাখতে শুরু হয় আনন্দ সন্ধ্যার বিনোদন অনুষ্ঠান। বেশ হাস্যকৌতুকসহ শুভেচ্ছা বক্তব্যে অংশ নেন সর্বজনাব আমিনুল ইসলাম, আবু নাসির, ইকবাল সিদ্দিকী, কে এম এইচ শহীদুল হক, রোকাসানা পারভীন লীনা এবং সমরেন্দ্র সরকার। প্রনস এডমিন রফিক সুলায়মান তাঁর প্রতি শুভেচ্ছার উত্তরে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। কিভাবে প্রনসের অভ্যুদয় হোল এবং কি করে গত তিন বছর প্রনস পথ চলে আজকের অবস্থানে এসেছে তার একটা সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন। শুদ্ধ বাণী, সুর ও স্বরলিপি অনুসরণ করে যারা নজরুলে গান করেন, সেই মানের তাঁদের অনেক গান প্রনস-এর পাতায় এবং ইউটিউবে প্রচার করা হয়। একই সাথে কিছু সুরান্তর এবং প্রচলিত সুরের গানও প্রনস আপলোড করেছে। উদ্দেশ্য ছিল মানুষ যেন দুটোর ভিন্নতা উপলব্ধি করতে পারে। এইভাবে যাত্রা শুরু করে প্রনস একটু একটু করে অগ্রসর হয়েছে। প্রনস-এ বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১১,৬৬১ এবং প্রনস ব্যানারে নবীন থেকে প্রবীণ শিল্পীদের এ যাবৎ প্রায় সাড়ে বারশ’ গান ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে, যেখানে নজরুল সঙ্গীত আছে আটশ’ এর মতো। এতো বিশাল সংখ্যক গান অন্য কোন গ্রুপ থেকে আজও প্রচার করা হয়নি। তিনি তাঁর জন্মদিনের আয়োজন, সবার সানুগ্রহ উপস্থিতি এবং তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই পর্বে শিল্পীদের পরিবেশনার জন্য একে একে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাঁদের নামের প্রথম অক্ষরের সাথে সাযুজ্য রেখে রোমান হরফের অ্যালফাবেটিক্যাল অর্ডারে এ-টু-জেড বরাবর । এই স্টাইলটি প্রনস অনুষ্ঠানের এবারেই প্রথম প্রয়োগ। হয়তো পরের অনুষ্ঠানে উল্টো করে জেড থেকে এ অভিমুখে অর্ডার মেইন্টেন করা হবে। আবার হয়তো এর পরের অনুষ্ঠানে বর্ণমালার কেন্দ্র থেকে একবার এ অভিমুখে এবং আরেকবার জেড অভিমুখে ডাকা হবে। অর্থাৎ প্রথমে এম দিয়ে শুরু করে এরপরে এন এবং তারপরে এল, এমনি করে ও আর তারপরে কে – এইভাবে সাজানো হবে। এমনিভাবে প্রবীণ-নবীন সবাইকে একই লেভেল প্লেইং ফিল্ডে আনা সম্ভব হবে।

এ-টু-জেড কিউতে শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেন সর্বশিল্পী অসীম বাইন , াশিষ কুমার সরকারr, বিপাশা গুহঠাকুরতা, সুজিত মোস্তফা, বিজন মিস্ত্রী, জয়ন্ত আচাষ্টস্ত্রকরিম হাসান খান, মুর্শিদ জাহান, ্মইদুল ইসলাম, নাহীদ মোমেন, পারভীন সুলতানা, শহীদ কবির পলাশ, ্রেবেকা সুলতানা, শাহজাহান পাটোয়ারী, শিরিন আখতার চন্দনা, উত্তমকুমার রায় এবং জেড এইচ খান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রফিক সুলায়মান সাহেবকে শুভেচ্ছা এবং প্রনস-এর উত্তর উত্তর শ্রীবৃদ্ধি ও সাফল্যের জন্য শুভ কামনা জানান সর্বশিল্পী রওনক আরা রাসেল, ্রওশন আরা সোমা, রাহাত আরা গীতি, জিয়া মাহফুজ ভূইয়া, আহমদ মায়া, হীরা আক্তার, আবৃত্তি শিল্পী াল মেরাজ, কবি শরীফ শেখ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেহেবুবুল টগর, রিপন ফকির , শাখা মৃগ এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আবি আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানের সার্বিক দেকভালের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক আপডেট সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছেন গোলাম ফারুক ভাই।

গান, আলাপন, উপভোগ্য আড্ডার পরে সুন্দর একটা সুবৃহৎ ডাইনিং রুমে সালাদ, সবজি, চিকেন, মাটন, মটর শুঁটির স্পেশাল পোলাউ ইত্যাদি আইটেম দিয়ে পরিবেশিত হোল নৈশভোজ। আল-মেরাজ সাহেবের সৌজন্যে কলাকোপার প্রসিদ্ধ রসগোল্লা দিয়ে হোল নৈশভোজের মুধুরেণ সমাপয়েত। অন্যান্য পর্বের মতো নৈশভোজের সময়ও গোলাম ফারুক ভাই যেভাবে প্রত্যেককে যত্ন, আতিথেয়তা, খাবার পরিবেশনের তত্ত্বাবধান ও দেখাশোনা করছিলেন, তাতে আমার মনে হয়েছে জাঁকজমক কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে এক উপযুক্ত পাত্রের আমরা সবাই বরযাত্রী এবং গোলাম ফারুক ভাই কনে পক্ষের অভিভাবক।

সমস্যা ছিল পরিসরের, সমস্যা ছিল অনুষ্ঠান চলাকালীন কারও আগমন ও প্রস্থানের ফলে মনোযোগ বিচ্যুতির। খুব বেশি না হলেও কারও কারও মোবাইল ফোনে আলাপন কিংবা কেউ কেউ থেকে থেকে পাশের জনের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় (যা অবশ্য অপ্রত্যাশিত ছিল না) অনুষ্ঠানের প্রতি অন্যদের মনোসংযোগে কিছুটা হলেও বিঘ্ন ঘটিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করেছিল সময় গননার কাজে ব্যবহৃত পৃথিবীর প্রাচীন ছোট্ট যন্ত্রটি। কারণ ঘড়ি নামের এই অনাসৃষ্টিটি মিনিটে ষাট সেকেন্ড গতিতে দৌড়িয়ে তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যা লগ্নকে মধ্যরাতের দিকে নিয়ে গেছে। অনুষ্ঠানকে আয়োজকদের কল্পনার সৌন্দর্যের শেষ সীমায় পৌঁছতে দেয়নি। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং কবি শরীফ শেখ প্রনস প্রধান এডমিন রফিক সাহেবের উদ্দেশ্যে তাঁর সদ্য লেখা একটি কবিতা পাঠ করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সেই প্রার্থিত কবিতা সবার সাথে শেয়ার করার সুযোগ দেয়া হোল না। গান গাওয়ার সময় দেয়া যায়নি শিল্পী আহমদ মায়া এবং শিল্পী সাইদ হোসেন রাজা সাহেবকেও। সময়ের অভাবে আমরা বঞ্চিত হলাম আবি আবদুল্লাহ সাহেবের ম্যাজিক উপভোগ থেকে। চেষ্টা ছিল, আয়োজনও ছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে র‍্যাফেল ড্র পর্বটিও খুব বিফিটিং হোল না। কিন্তু এসব কিছুর পরেও ১৩ জুলাই ধানমন্ডি ক্লাব প্রাঙ্গন আনন্দ-বিনোদন জলসায় মুখর হয়ে উঠেছিল, যার স্মৃতি আশাকরি সবার মনলোকে স্থায়ী ঠিকানা করে নেবে জীবনের বাকী সময়ের জন্য।

লেখকঃ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

Check Also

ক্ষতিকর বস

ক্যারিয়ারের জন্য ‘ক্ষতিকর বস’-কে চেনার সহজ উপায়

একজন পীড়াদায়ক বস শুধু আপনার কর্মক্ষেত্রকে বিষময় করেই তোলে না। বরং আপনার ব্যক্তিগত জীবনকেও প্রভাবিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *