cool hit counter
সর্বশেষ প্রকাশিত

না জানা কিছু কথা পর্ব – ১

রকি সাহা (ফার্মাসিস্ট , ইউ.এস.টি.সি )

১. প্রশ্ন: বারবার মাথা ন্যাড়া করলে শিশুদের চুল কি ঘন হয়ে ওঠে?

উত্তর: এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুব একটা নেই। তবে জন্মের পর একবার মাথা ন্যাড়া করা হলে চুলের ফলিকল একের জায়গায় একাধিক হয় এবং সঠিক দিকে বেড়ে ওঠার নির্দেশনা পায়। এতে হয়তো খানিকটা উপকার হয়। কিন্তু ছোটবেলায় বারবার চুল ফেলে দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে চুল ঘন হয় বা সুন্দর হয়—এই ধারণা ঠিক নয়। তবে চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ফাটা আগা মাঝেমধ্যে ছাঁটা উচিত

২. প্রশ্ন: মাড়সহ ভাতে কি পুষ্টি বেশি থাকে?

উত্তর: মাড় ফেলে দেওয়া ভাতের তুলনায় মাড়সুদ্ধ বা বসা ভাতে ক্যালরির পরিমাণ অবশ্যই বেশি থাকে। এতে শর্করা, থায়ামিন ইত্যাদি বেশি পরিমাণে রয়ে যায়। সে কারণে গ্রামাঞ্চলে অপুষ্টি ঠেকাতে আগে বসা ভাত খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু স্থূলতা বা ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির এ ধরনের ভাত না খাওয়াই ভালো।

৩. প্রশ্ন: রাতের খাবার খেয়েই বা অল্প সময় পরই ঘুমানো কি স্বাস্থ্যকর?

উত্তর: খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানো সেটা দুপুর কিংবা রাত হোক, কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে না শুয়ে ১৫-২০ মিনিট বসে থাকা বা হাঁটাহাঁটি করা উচিত। রাতে ঘুমানোর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া উচিত। আরও ভালো হয় মাঝরাত বা দেরি করে খাবার না খেয়ে আগেই খাবার খাওয়া। এতে রাতের খাবার হজম ভালো হয় ও হজমশক্তিও ভালো থাকে।

৪. প্রশ্ন: জরায়ুতে টিউমার হলে কি সন্তান ধারণে কোনো সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ, জরায়ু টিউমারের জন্য সন্তান ধারণে সমস্যা বা বারবার গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। ৩০-৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে জরায়ু টিউমারের জন্য বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। টিউমারের কারণে জরায়ু অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে, ভেতরে কোনো কারণে ভ্রূণ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না, জরায়ু ও ফেলোপিয়ান টিউবের সংযোগস্থলে বা এমন জায়গায় টিউমারটির অবস্থান হয়, যা ভ্রূণকে সুস্থিত হতে বাধা দেয়। এসব ক্ষেত্রে বারবার গর্ভপাত ঘটে বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সন্তান নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. প্রশ্ন: উচ্চ রক্তচাপ কি বেশি বয়সের অসুখ, অর্থাৎ শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরাই কি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন?

উত্তর: ধারণাটি মোটেই সঠিক নয়। যেকোনো বয়সের নর-নারীই জীবনের যেকোনো সময়ে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে বিভিন্ন কারণে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের নর-নারীর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যেমন: অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভকালীন সময়ে, কিডনি সমস্যায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত এবং সতর্ক থাকা উচিত।

৬. প্রশ্ন: কর্মজীবী মায়েরা শিশুর জন্য বুকের দুধ বাড়িতে রেখে গেলে তা কতক্ষণ পর্যন্ত খাওয়ানো যাবে?

উত্তর: কর্মজীবী মায়েরা বাইরে যাওয়ার সময় শিশুর জন্য বুকের দুধ নিঃসৃত করে ঢাকনা দেওয়া পরিষ্কার বাটিতে রেখে যেতে পারেন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আট ঘণ্টা পর্যন্ত এটি ভালো থাকবে ও বাটি চামচ ব্যবহার করে শিশুকে খাওয়ানো যাবে। কোনো অবস্থায়ই ফিডার বোতল ব্যবহার করা যাবে না। রেফ্রিজারেটরে রাখলে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো রাখা যায়, তবে অবশ্যই খাওয়ানোর বেশ আগে বের করে নিতে হবে।

৭. প্রশ্ন: স্তন্যপানরত শিশুদেরও কি ঠান্ডা-কাশিতে মধু, লেবু বা তুলসী পাতার রস খাওয়ানো যাবে?

উত্তর: শিশুদের কাশি প্রশমনের জন্য দু-এক ফোঁটা মধু বা লেবুর রস বা তুলসী পাতার রস বুকের দুধের সঙ্গে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে কোনো ক্ষতি নেই, বরং শিশু খানিকটা আরাম পেতে পারে। তবে বাসক পাতার রসে তেমন উপকার হয় না এবং এর তিতকুটে স্বাদে শিশু বিরক্ত হতে পারে। এ ছাড়া বুকের দুধ দেওয়ার ১৫ মিনিট আগে শিশুর বন্ধ নাক লবণমিশ্রিত পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে, যাতে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শ্বাস বন্ধ না হয়ে যায়।

৮. প্রশ্ন: সাদা রুটি ও বাদামি রুটির মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: সাদা রুটি বা পাউরুটি ময়দা দিয়ে তৈরি। ময়দায় আঁশের পরিমাণ কম, এর গ্লাইসেমিক সূচকও বেশি। সাধারণ পাউরুটি তৈরিতে সাধারণত ময়দার সঙ্গে চিনি বা চর্বি যেমন, ডালডাও ব্যবহূত হয়। গ্লাইসেমিক সূচকের দিক দিয়ে সাদা পাউরুটি আর সহজ শর্করার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। ডায়াবেটিস ও ওজনাধিক্য রোগীদের জন্য নিয়মিত এটি গ্রহণ করা তাই অনুচিত। রুটি যদি খেতে হয়, তবে হাতে বেলা আটার রুটি, সম্ভব হলে লাল আটার রুটি খাওয়া উচিত। আর কিনে খেতে চাইলে বাদামি রুটি বা ব্রাউন ব্রেড, যা চিনি ছাড়া ও উচ্চ আঁশযুক্ত—সেটা খাওয়াই ভালো।

৯. প্রশ্ন: অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে কি মানসিক রোগের সম্পর্ক থাকতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত ও মাত্রাহীন খাদ্য গ্রহণের কারণ কোনো জটিল মানসিক রোগ হওয়া অসম্ভব নয়। কেননা বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডারে রোগী বেশি খেতে চায়। অনেক সময় বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীরাও খেয়ে ফেলে বেশি। এ ছাড়া কিছু খাদ্য গ্রহণজনিত আচরণগত সমস্যা আছে, যা রোগীকে অতিরিক্ত খেতে বাধ্য করে। কেবল রোগ নয়, মানসিক রোগের কারণে যেসব ওষুধ দেওয়া হয়, তার কোনোটির প্রতিক্রিয়ায়ও রোগী বেশি খেতে পারে। কারও মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেলার অভ্যাস ও অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মানসিক কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

১০. প্রশ্ন: উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কি প্রতিদিন রক্তচাপ মাপতে হবে?

উত্তর: না, প্রতিদিন রক্তচাপ মাপার প্রয়োজন নেই। রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে প্রথম দিকে এক দিন পরপর, পরে সপ্তাহে এক দিন এবং পরবর্তী সময়ে দুই সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার রক্তচাপ মাপা উচিত। আর উচ্চ রক্তচাপ কখনোই সেরে যাবে না, তবে একে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পর নিয়মিত এক মাস বা দুই মাস পরপর রক্তচাপ মেপে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা উচিত।

About Arif Hossain

Check Also

যে কারণে ১১ বার সহবাস করা উচিত

১১ বার যৌনমিলন খুশি রাখবে নব বিবাহিতদের। সাইকোথেরাপিস্ট এম গ্যারি নিউম্যানের গবেষনায় উঠে এসেছে এমনটাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *