cool hit counter
সর্বশেষ প্রকাশিত

ঢাকার ঐতিহ্য ‘রোজ গার্ডেন’

উনিশ শতকের শুরুর দিকে ঢাকার একজন বেশ নামকরা জমিদার ছিলেন হৃষিকেশ দাস! সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসছিলেন তিনি, তাই ঢাকার খানদানি পরিবার গুলো তাকে তেমন পাত্তা দিত না।কথিত আছে, একবার তিনি সে সময়ের ঢাকার বিখ্যাত বলধার জমিদার রেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীর বাগানবাড়ি বলধা গার্ডেনের এক জলসায় গিয়েছিলেন! সেখানে সে কোনভাবে প্রচন্ড অপমানিত হয়েছিলেন! এরই প্রেক্ষিতে তিনি বলধা গার্ডেনের চাইতে অনেক বেশি সুন্দর এমন এক বাগান বাড়ি বানাতে চাইলেন যাতে চারিদিকে আলোড়ন পরে যায়।
হৃষিকেশ রোডে (তখন এ নাম ছিল না) তখন তিনি ২২ বিঘা জমি কিনে সেখানে ১৯৩০ সালে প্রথমে বানালেন একটি গোলাপের বাগান, পরের বছর ১৯৩১ তৈরি করলেন কারিন্থিয়ান পিলারে ঘেরা এই সুরম্য প্রাসাদ স্থাপত্যটি।

বাগানে ছিল গোলাপ ফুলের আধিক্য, নানা প্রজাতির গোলাপ ছিল সারা প্রাসাদ কমপ্লেকস জুড়ে! তাই এর নাম হলো ‘রোজ গার্ডেন’!
এছাড়া বাগানে মার্বেল পাথরের মূর্তি, কৃত্রিম ফোয়ারা ইত্যাদিও ছিল, রোজ গার্ডেন হয়ে উঠেছিল তখন ঢাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
বাগানে এখনও বেশ কয়েকটি শ্বেত  পাথরের মূর্তি আছে। বেশির ভাগ মূর্তিই বাড়ির ভেতরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আগে মূল বাড়ির সামনে সুদৃশ্য একটা বড় ঝর্ণা ছিল, যার ভগ্নাংশটি এখনও রয়ে গেছে। এখন বাড়ির ঠিক সামনেই একটা পুকুর আছে। ওপর পাশে বেশ কিছু তাল গাছের সারি।
প্রাসাদের নীচ তলায় একটি বড় হল ঘর সহ আটটি কামরা আর উপরের তলায় একটা বড় নাচঘর সহ পাঁচটি কামরা আছে।
তবে ভবনটি নির্মানের কিছুকাল পরেই হৃষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে পরলে তিনি এই প্রাসাদ বিক্রি করে দেন বই ব্যাবসায়ী আবদুর রশিদের কাছে। তিনি এখানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরী। সত্তর সালের দিকে ‘রোজ গার্ডেন’ লীজ দেয়া হয় ‘বেঙ্গল স্টুডিও’কে। ১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ‘রোজ গার্ডেন’কে সংরক্ষিত ভবন বলে ঘোষণা করে। এরপর প্রথম হাত বদল হয় ১৯৩৭ সালে। ১৯৬৬ সালে আবদুর রশীদের বড় ভাই কাজী হুমায়ুন বশীর এই রোজ গার্ডেনের মালিকানা লাভ করেন। এ সময় তাঁর নামেই রোজ গার্ডেন হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কাজী হুমায়ুন ১৯৭০ সালে তৎকালীন স্বনামধন্য চলচিত্র উন্নয়ন সংস্থা বেঙ্গল ষ্টুডিও ও মোশন পিকচার্স লি: এর কাছে বাড়িটি ভাড়া দেন। শেষে ১৯৯৩ সালে বাড়িটির অধিকার ফিরে পান কাজী রকিব, হুমায়ুন সাহেবের পারিবারিক বংশধর। বাড়িটির বর্তমান মালিক তিনি ও তাঁর স্ত্রী লায়লা রাকিব।
এই রোজ গার্ডেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনারও সাক্ষি হয়ে আছে, ১৯৪৯ সালে এখানেই গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ!’

ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস রোডে অবস্থিত রোজ গার্ডেন সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া অন্য সব দিন দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

Check Also

যে কারণে ১১ বার সহবাস করা উচিত

১১ বার যৌনমিলন খুশি রাখবে নব বিবাহিতদের। সাইকোথেরাপিস্ট এম গ্যারি নিউম্যানের গবেষনায় উঠে এসেছে এমনটাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *