cool hit counter
সর্বশেষ প্রকাশিত

নবজাগরণে ঠাকুরবাড়ির মেয়ে-বউরা ১

পৌলমী দাশ গুপ্ত জ্ঞানদানন্দিনীউনিশ শতকের শেষ থেকে বাংলার এক নবজাগরণ শুরু হয়।সাহিত্য , দর্শন , শিক্ষা, গান, কবিতা, সংস্কৃতি, নাটক সব ক্ষেত্রেই নতুন এক সময় শুরু হয় । সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে প্রবাদ পুরুষেরা এ সময়ে তাদের সৃষ্টির শিখরে অবস্থান করেন। এই নবজাগরণে সবচেয়ে বড় আলোটি আসে ঠাকুর বাড়ি থেকে । আধুনিক বাংলার সুরুচি ও সৌন্দর্যযবোধের সবটুকুই তো ঠাকুরবাড়ির দান। ঠাকুরবাড়ির নাম করতেই যে ছবিটা আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে তিনি আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু আমাদেরকে মনে রাখতে হবে দ্বারকানাথ ঠাকুরের আমল থেকেই এ বাড়ীতে জীবনযাত্রার একটা নতুন সংস্কার গড়ে উঠেছিল। এ অগ্রযাত্রায় ঠাকুর বাড়ির মেয়ে-বউরা সামিল হয়েছিল প্রথম থেকেই।

সাহিত্য ,সংগীত বা শিল্পের দিক থেকে নতুন কিছু পাবার আগে প্রকৃতপক্ষে বাঙালী মেয়েরা ঠাকুরবাড়ির মেয়েদের কাছ থেকে পেল আত্মবিশ্বাস আর এগিয়ে যাবার প্রশস্ত পথ। ঠাকুরবাড়ির মেয়ে-বউদের মধ্যে যার নাম সবার আগে প্রতিভাত হয় তিনি জ্ঞানদানন্দিনী দেবী।

তিনি ঠাকুর বাড়ির মেজো ছেলে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বউ। তখনকার মেয়েদের জবরজং শাড়ি পেঁচিয়ে পরা থেকে রক্ষা করলেন তিনি । বাইরে বের হবার জন্য বাঙালী মেয়েদেরকে দিলেন একটি রুচিশীল সাজ। বেশবাসে আধুনিকতা আনা ছাড়াও তিনি আরো দুইটি জিনিসের প্রবর্তক –সান্ধ্যভ্রমণ আর জন্মদিন পালন। তিনি বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জড় করে একটি পত্রিকা বের করলেন, নাম ‘বালক’।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তার কৈশোর বয়সের লেখাগুলো এই পত্রিকায় লিখেছেন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ই প্রথম মহিলা যিনি সেই সময় একা দুই তিনটি শিশুকে নিয়ে কালাপানি পার হয়ে বিলেতে গিয়েছিলেন। এজন্য অবশ্য তাকে প্রচুর কথা শুনতে হয়েছিল। জ্ঞানদানন্দিনী দেবীকে প্রায় সব কাজেই এগিয়ে আসতে দেখা যায়। ঠাকুরবাড়ির নিজস্ব মঞ্চ নাটকে মঞ্চ সাজানো ,পাত্র-পাত্রীদের সাজগোজে যেমন দায়িত্ব পালন করতেন তেমনি অভিনয়েও লেগে যেতেন। ঠাকুরবাড়ির ছোটদেরকে লেখার উৎসাহ দিতেন প্রতিনিয়ত। একাকিনী জ্ঞানদানন্দিনী এভাবেই অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন বাঙালী মেয়েদেরকে।

Check Also

একরাতেই ব্রণ দূর !

করণীয় : ২ চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, ১ বা দেড় চা চামচ লেবুর রস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *