cool hit counter
সর্বশেষ প্রকাশিত

গরমে চর্মরোগ

 

 

আমেনা বেগম রুনা ( ফার্মাসিস্ট) স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ,

 কিছু কিছু চর্মরোগ আছে, যা গরম এলেই দেখা দেয় আবার শীত এলে আপনা আপনিই কমে যায়। সে রকম দু-একটি রোগ নিয়ে আজ সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা যাক। যারা ঘামাচিতে ভোগেন তারা লক্ষ্য করে থাকবেন গরম চলে গেলে ঘামাচি চলে যায়। যারা দাদে ভোগেন তারা দেখবেন গরম কাল এলেই তা বাড়তে থাকে এবং প্রচণ্ড চুলকায়। যাদের শরীরে ছুলি হয় তারা লক্ষ্য করলে দেখবেন শীত এলে ছুলি আর দেখা যায় না। কিন্তু গরমকাল আসতে না আসতেই তা আবার ফুটে উঠতে থাকে।

প্রথমতো দাদের কথায় আসা যাক, গরম এলে শরীরে ঘাম হয় এবং শরীর ভেজা থাকে। ফলে শরীরে ছত্রাক বা ফাংগাস জন্মায়। মনে রাখতে হবে ভেজা শরীরই হলো ছত্রাক জন্মানোর উর্বর ক্ষেত্র। তাই যাদের শরীরে ঘাম বেশি হয়, তারা সব সময় ঘামে ভেজা কাপড় এড়িয়ে চলবেন। কাপড় ঘামে ভিজে জবজব হয়ে আছে অথচ আপনি তা পাল্টালেন না তা হলে আপনার শরীরে দাদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। আবার যারা শারীরিকভাবে মোটা তাদের দেহ বেশি ভেজা থাকতে দেখা যায়। সেই ভাঁজের মধ্যে ঘাম আর ময়লা বেশি জমে থাকে বলে দেহের ভাঁজযুক্ত স্থানে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস বেশি হতে দেখা যায়। এক হিসাবে দেখা গেছে আমাদের দেশে প্রতি বছর অন্ততপক্ষে ৭০-৮০ হাজার লোক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আবার বিশ্বব্যাপী এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ লোক তাদের জীবদ্দশায় কখনো না কখনো এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

ছত্রাক বা ফাঙ্গাসজনিত যেসব রোগ আমাদের দেশে দেখা যায় সেগুলোকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ

(১) দাদ, (২) ছুলি ও (৩) ক্যানডিডিয়াসিস

এই তিন ধরনের ছত্রাক প্রজাতির সবই মূলত ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে এবং সেই আক্রমণ স্যাঁতসেঁতে, নোংড়া এবং ঘর্মাক্ত দেহে সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়।

দাদঃ

দাদ দেহের যেকোনো স্থানে দেখা দিতে পারে। যে স্থানে দেখা দেয় সেই স্থানটিতে গোলাকার চাকার মতো দাগ দেখা যায়। যার মধ্যখানের চামড়া প্রায় স্বাভাবিক আকারে দেখতে হলেও দাগের পরিধিতে ছোট ছোট গোটা দেখা যায় এবং দাগের পরিধি উঁচু বিভক্তি লাইন আকারে লক্ষ্য করা যায়। চুলকালে সেখান থেকে কষ ঝরতে থাকে। শরীরের যেকোনো স্থানে এর আক্রমণ ঘটতে পারে। তবে দেখা গেছে, সাধারণত তলপেট, পেট, কোমর,  পিঠ, মাথা, কুচকি ইত্যাদি স্থানে এর আক্রমণ বেশি ঘটতে দেখা যায়।

ছুলিঃ

এটিও একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। ছত্রাকের যে জীবাণু দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম ম্যালাছাজিয়া ফার ফার। গরমকালে এ রোগটি হয় এবং শীতকাল এলে এমনিতেই যেন মিলিয়ে যায়। গরমকালে এই রোগ হওয়ার কারণ হচ্ছে ত্বক ঘামে ভেজা থাকে ফলে ভেজা স্থানে এই রোগের জীবাণুর আক্রমণ ঘটে। এ রোগে আক্রান্ত স্থানে হালকা, বাদামি, সাদা গোলাকৃতির দাগ হতে দেখা যায়। সাধারণত বুক, গলার দু’পার্শ্ব, ঘাড়ের পেছন দিক, পিঠের ওপরের অংশ, বগলের নিচে, এমনকি সারা শরীরেও হয়ে থাকতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত ত্বক দেখতে সাদা হয় তাই অনেকে আবার একে শ্বেতি বলেও ভাবতে শুরু করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শ্বেতির সাথে এর কোনোই সম্পর্ক নেই।

Check Also

যে কারণে ১১ বার সহবাস করা উচিত

১১ বার যৌনমিলন খুশি রাখবে নব বিবাহিতদের। সাইকোথেরাপিস্ট এম গ্যারি নিউম্যানের গবেষনায় উঠে এসেছে এমনটাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *