cool hit counter
সর্বশেষ প্রকাশিত

একশিরা রোগ বা হাইড্রোসিল

hydrocele
খাদিজাতুল কোবরা
(ফার্মাসিস্ট, ইউ.এস.টি.সি)

অন্ডথলির ভেতরে শুক্রাশয়টি প্রায় ৩-৪ টি পাতলা পর্দা বা আবরনী দ্বারা ঘেরা থাকে, এমন দুটি আবরনীর ভেতরে যখন স্বচ্ছ কিছু তরল জমা হয় তখনই তাকে হাইড্রোসিল বলা হয়।

হাইড্রো মানে যে পানি এতো আমরা সবাই জানি, হাইড্রোসিলের ভেতরের তরলটি কিন্ত পানির মতো অত স্বচ্ছ নয়, কিছুটা এম্বার রঙ এর। নানা বিধ কারনে ঐ সকল পর্দার ভেতরে তরল জমতে পারে এর ফলাফল কিন্ত একটাই বিশাল আকৃতির একটি অন্ডকোষ নিয়ে রোগী বেশ অস্বস্তিতে পরেন, অন্ডকোষের আকার দিনে দিনে বাড়তেই থাকে, রোগীর পক্ষে এক সময় ট্রাউজার বা ফুলপ্যান্ট পরা সম্ভব হয়না, স্বাভাবিক কাজ কর্ম ব্যহত হয় এবং এক সময় যৌন মিলনও অসম্ভব হয়ে উঠে।

জন্মের সময় প্রতি ১০ জন পুরুষশিশুর মধ্যে প্রায় একজনের হাইড্রোসিল থাকে, তবে বেশির ভাগ হাইড্রোসিল চিকিৎসা ছাড়াই প্রথম বছরের মধ্যে মিলিয়ে যায়। আর পুরুষদের সাধারণত ৪০ বছরের ওপরে অণ্ডথলিতে প্রদাহ বা আঘাতের কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে।

হাইড্রোসিলে সাধারণত ব্যথা হয় না। সাধারণত হাইড্রোসিল ক্ষতিকর নয়। দেখতে হবে অন্য কোনো কারণে যেমন অণ্ডকোষের ক্যান্সার বা অন্য রোগে অণ্ডকোষ ফুলে গেছে কি না।

উপসর্গ:
হাইড্রোসিলের প্রধান উপসর্গ হলো ব্যথাবিহীন ফোলা অণ্ডকোষ। পানিভর্তি বেলুনের মতো অনুভূত হয়। হাইড্রোসিল একটি বা দু’টি অণ্ডকোষেই হতে পারে।

কারণ:
(১) ছেলেশিশুর ক্ষেত্রে গর্ভে থাকা অবস্থায় হাইড্রোসিল হতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রায় ২৮ সপ্তাহে স্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শিশুর অণ্ডকোষ উদরগহ্বর থেকে অণ্ডথলিতে নেমে আসে। প্রতিটি অণ্ডকোষের সাথে একটি স্যাক বা থলি (প্রোসেসাস ভ্যাজাইনালিস) থাকে। এর মধ্যে পানি জমে।

শিশুর দুই ধরনের হাইড্রোসিল হতে পারে-
=> সংযোগবিহীন হাইড্রোসিলঃ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই স্যাক বা থলি বন্ধ হয়ে যায় এবং পানি শোষিত হয়। তবে থলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও যদি পানি থেকে যায় তাহলে সেই অবস্থাকে বলে ননকমিউনিকেটিং বা সংযোগবিহীন হাইড্রোসিল। কারণ এ ক্ষেত্রে থলি বন্ধ হয় কিন্তু পানি পেটে ফিরে যেতে পারে না। সাধারণত এক বছরের মধ্যে পানি শোষিত হয়ে মিলিয়ে যায়।
=> সংযোগকারী হাইড্রোসিলঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে থলি খোলা থাকে। এ অবস্থাকে বলে কমিউনিকেটিং বা সংযোগকারী হাইড্রোসিল। থলির আকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা অণ্ডথলিতে চাপ দিলে পেটে ফিরে যতে পারে।

(২) বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডথলির মধ্যে প্রদাহ বা আঘাতের ফলে হাইড্রোসিল হতে পারে। অণ্ডকোষ বা এপিডিডাইমিসে সংক্রমণ ঘটলে হাইড্রোসিল হতে পারে।

রোগ নির্ণয়:
সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা করে হাইড্রোসিল নির্ণয় করা হয়। অণ্ডথলি ফুলে গিয়ে বড় হয় এবং চাপ দিলে ব্যথা লাগে না। সাধারণত চার পাশের পানির কারণে অণ্ডকোষে হাত দিয়ে অনুভব করা যায় না। পেটে কিংবা অণ্ডথলিতে চাপ দিলে কখনো পানিপূর্ণ থলি বড় বা ছোট হতে পারে, এ রকম হলে বুঝতে হবে ইনগুইনাল হার্নিয়া রয়েছে।

অণ্ডকোষের চার পাশে পানি থাকে বলে অণ্ডকোষ হাত দিয়ে অনুভব করা না-ও যেতে পারে। স ক্ষেত্রে অন্য পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভাব্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
–আলট্রাসাউন্ড ইমেজিং
–পেটের এক্স-রে

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো:
বেশির ভাগ হাইড্রোসিল জন্মের সময় থাকে। একে বলে জন্মগত হাইড্রোসিল। অন্য অবস্থাগুলো সাধারণত ৪০ বছর বয়সে বা তার বেশি বয়সে আক্রমণ করে। হাইড্রোসিলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- অণ্ডথলিতে আঘাত, ইনফেকশন বা সংক্রমণ, রেডিয়েশন থেরাপি বা রশ্মির সাহায্যে চিকিৎসা।

জটিলতা:
হাইড্রোসিল সাধারণত বিপজ্জনক নয় এবং সাধারণত এটা প্রজননের ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তবে নিচের অবস্থাগুলোর সাথে এটা সম্পৃক্ত থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে এটা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

ইনফেকশন অথবা টিউমার- এগুলো শুক্রাণু উৎপাদনে বা শুক্রাণুর কাজে বাধা দিতে পারে।
ইনগুইনাল হার্নিয়া- হার্নিয়া আটকে গেলে জীবন-মরণ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া সচরাচর যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো-
-চলাফেরায় অসুবিধা
-যৌন মিলনে সমস্যা
-হাইড্রোসিল বেশি বড় হলে অণ্ডকোষের রক্ত সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা।

চিকিৎসা :
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অপারেশনের মাধ্যমেই হাইড্রোসিল ভালো হয়ে যায়। অনেকে আবার ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে স্ক্লেরোজেন্ট দিয়ে এর চিকিৎসা করার পক্ষপাতি যদিও এটা খুবই বেদনা দায়ক। হাইড্রোসিল এর অপারেশন তেমন জটিল কোনো সার্জারি নয়,তবুও একজন অভিজ্ঞ সার্জন দ্বারাই এই অপারেশন করানো উচিত, হাইড্রোসিল এর সাথে হার্নিয়া থাকলে একই সাথে দুটো অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। একদম সফল অপারেশনের পরও পুনরায় হাইড্রোসিল হবার কিছু সুযোগ কিন্ত থেকেই যায়, তাই এই সকল চিন্তা মাথায় রেখেই চিকিৎসা করানো উচিত।

Check Also

যে কারণে ১১ বার সহবাস করা উচিত

১১ বার যৌনমিলন খুশি রাখবে নব বিবাহিতদের। সাইকোথেরাপিস্ট এম গ্যারি নিউম্যানের গবেষনায় উঠে এসেছে এমনটাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *